ঘুমের সময় বীর্যপাত (Nocturnal Emission): এটি কি স্বাভাবিক, নাকি চিকিৎসা প্রয়োজন?
প্রিয় পাঠক,
আমি ডাঃ মোঃ ইকরামুল ইসলাম, এই বিষয়টি অনেকেই চুপচাপ সহ্য করেন, কিন্তু খোলাখুলি আলোচনা করেন না।
আজ আমি কথা বলবো এমন একটি বিষয় নিয়ে—নাইটফল বা স্বপ্নদোষ, যেটি একজন তরুণ পুরুষের কাছে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
কি হয় এই ক্ষেত্রে?
ঘুমের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত হওয়াকে বলা হয় Nocturnal Emission বা স্বপ্নদোষ। এটি মূলত টিনএজ থেকে শুরু হয়ে ২০-৩০ বছর বয়সের মধ্যে বেশি ঘটে থাকে।
কেন ঘটে?
-
শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক প্রবাহের কারণে
-
অবিবাহিত অবস্থায় নিয়মিত সেক্সচুয়াল রিলিজ না হলে
-
ঘুমের মধ্যে সেক্সুয়াল ড্রিম বা উত্তেজনায়
-
ঘুম ঠিকমতো না হওয়া, মানসিক চাপ
স্বপ্নদোষ কি ক্ষতিকর?
স্বাভাবিকভাবে মাসে ১–৩ বার হওয়া ক্ষতিকর নয়। তবে যদি:
-
প্রতি সপ্তাহে ৪–৫ বার হয়
-
বীর্যপাতের পর অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা
-
যৌন অক্ষমতা বা দ্রুত বীর্যপাতের ভয় তৈরি হয়
-
দুশ্চিন্তা, ঘুম কমে যায়
তাহলে এটা ফিজিকাল নয়, বরং সাইকোলজিকাল ও হরমোনাল ইমব্যালেন্স-এর ইঙ্গিত হতে পারে।
আপনার করণীয় কী?
১. ডাক্তার দেখাতে হবে—কিন্তু কোন ডাক্তার?
-
“Medicine” বা “Endocrinology” বিভাগে যান
-
অনেক সময় Psychiatry বিভাগ থেকেও সহায়তা নিতে হতে পারে যদি দুশ্চিন্তা থাকে
২. Lifestyle পরিবর্তন করুন:
-
পর্যাপ্ত ঘুম ও শারীরিক পরিশ্রম
-
উত্তেজক কনটেন্ট থেকে দূরে থাকুন
-
হালকা খাওয়া এবং রাতে পানি কম খাওয়া
-
ধ্যান/মেডিটেশন অভ্যাস করুন
৩. রক্তে টেস্ট দরকার হতে পারে:
-
Serum Testosterone
-
Prolactin
-
Thyroid function
৪. অতিরিক্ত দুর্বলতা থাকলে Multivitamin ও Mineral supplement দেয়া হয়
শেষ কথা:
এই বিষয়টি লজ্জার নয়—বরং সচেতন হবার সময়।
সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
আপনার যদি অভিজ্ঞতা বা প্রশ্ন থাকে—কমেন্টে জানান, আমি চেষ্টা করবো আপনাকে সহায়তা করতে।
ধন্যবাদান্তে,
ডাঃ মোঃ ইকরামুল ইসলাম
MBBS (Dhaka Medical College)
ECFMG Certified (USA)
আপনার মতামত বা প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান—আপনার প্রশ্নই হতে পারে অন্য কারও সহায়তা।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন