১৯ বছর বয়সে লিঙ্গ উত্তেজনায় সমস্যা ও আগ্রহহীনতা – একটি গভীর প্রশ্ন ও আমাদের সম্মিলিত বোঝাপড়া
প্রিয় পাঠক,
সম্প্রতি একজন কিশোর পাঠকের কাছ থেকে একটি হৃদয়বিদারক প্রশ্ন এসেছে—যিনি ১৯ বছর বয়সেই যৌন সমস্যা নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন। এমন প্রশ্ন আমাদের সমাজে অনেক তরুণের মনের গহীনে থাকলেও লজ্জা ও ভয় কারণে তারা তা প্রকাশ করতে পারেন না। তাই আজকের এই লেখা শুধু তার জন্য নয়, তাদের জন্যও যারা নিঃশব্দে এই সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
প্রশ্নের সারাংশ:
-
বয়স ১৯, যৌন ইচ্ছা বা উত্তেজনা নেই
-
লিঙ্গ স্বাভাবিকভাবে উত্তেজিত হয় না, ছোট হয়ে থাকে
-
অনেক চিকিৎসা নিয়েছেন, সাময়িক ফলও পেয়েছেন, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি
-
মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, বাঁচতে চাচ্ছেন—এই ভাষায় প্রশ্ন করেছেন
প্রথমে কিছু বাস্তব কথা:
১. আপনার বয়স এখনো কিশোরোত্তীর্ণ, পূর্ণ যৌন স্বাস্থ্য গঠনের সময়। অনেকেরই এই বয়সে কিছু অনিয়ম বা দেরিতে যৌন শক্তি প্রকাশ পেতে পারে। এটি সবসময় কোনো রোগের লক্ষণ নয়।
২. যৌন ইচ্ছার অভাব এবং উত্তেজনা না হওয়া — কেবল শারীরিক নয়, অধিকাংশ সময় মানসিক কারণেই হয়ে থাকে।
৩. আপনি যে ওষুধগুলো খেয়েছেন, সেগুলো মূলত সাময়িক উত্তেজনা বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সমাধান মানসিক ও জীবনধারার ভারসাম্যে লুকিয়ে।
সমস্যার সম্ভাব্য কারণসমূহ:
১. সাইকোজেনিক ইরেকটাইল ডিসফাংশন:
যৌনতা নিয়ে ভয়, গিল্ট, পারফরমেন্সের দুশ্চিন্তা বা আত্মবিশ্বাসের অভাব—এই কারণেই অনেক তরুণ উত্তেজনা ধরে রাখতে পারেন না।
-
হরমোনাল ইমব্যালেন্স:
টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা ইত্যাদি উত্তেজনায় প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে হরমোন টেস্ট প্রয়োজন। -
ডিপ্রেশন বা এনজাইটি:
অনেক সময় মানসিক বিষণ্নতা এমন উপসর্গের মূল কারণ হয়। -
পর্নোগ্রাফি আসক্তি বা অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ইতিহাস:
ব্রেইনের ডোপামিন সিস্টেম ভেঙে পড়ে এবং স্বাভাবিক উত্তেজনা নষ্ট হয়।
এই অবস্থায় করণীয়:
১. প্রয়োজনীয় পরীক্ষা:
-
Serum Testosterone (Free & Total)
-
Thyroid Profile (TSH, T3, T4)
-
Serum Prolactin
-
Morning Erection Frequency Checklist (নিজে লক্ষ্য করুন)
-
Depression & Anxiety Scale Test (মানসিক দিক বোঝার জন্য)
২. সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ:
-
একজন Sexual Medicine Specialist বা Psychosexual Counselor-এর পরামর্শ নিন
-
শুধুমাত্র ইউরোলজিস্ট নয়, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist) বা সাইকোথেরাপিস্ট অনেক বেশি সহায়ক হবেন
৩. ঘরোয়া পরিবর্তন:
-
পর্যাপ্ত ঘুম ও শরীরচর্চা করুন: টেস্টোস্টেরন স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য
-
অপসংস্কৃতি থেকে নিজেকে দূরে রাখুন: পর্ন, অতিরিক্ত হস্তমৈথুন বন্ধ করুন
-
ধূমপান, মদ্যপান, চা-কফি বাদ দিন
-
মেডিটেশন, প্রার্থনা বা আত্মিক অনুশীলন শুরু করুন মানসিক স্থিরতার জন্য
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা:
আপনি একা নন। এই সমস্যায় অনেকে ভুগেন এবং শতভাগ সুস্থ হন।
আপনার বয়স, দেহ ও মন—দুটোই এখন গঠনের সময়। কিছুটা ধৈর্য, সহানুভূতি, এবং সঠিক দিশা—এই তিনটি আপনাকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে।
শেষ কথা:
এই লেখাটি শুধু একজন ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তর নয়, বরং হাজারো তরুণের মন থেকে আসা চাপা প্রশ্নের জবাব। আত্মহত্যা বা হতাশা নয়—আপনার সমাধান আছে, সঠিক পথ আছে। নিজেকে সময় দিন, সহানুভূতির সঙ্গে চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
ধন্যবাদান্তে,
ডাঃ মোঃ ইকরামুল ইসলাম
MBBS (Dhaka Medical College Hospital)
ECFMG Certified (USA)
প্রিয় পাঠক, কারও যদি এই ধরনের সমস্যা থেকে থাকে, দয়া করে নিজেকে একা ভাববেন না। পোস্টটি শেয়ার করে পাশে দাঁড়ান, হয়তো কাউকে নতুন জীবনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন