কী করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস "রিভার্স" করার সম্ভাবনা বাড়ে
একজন ভারতীয় ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তরে বলছি -
আপনার জীবনধারা এবং খাদ্যাভ্যাস দেখে বোঝা যায়, আপনি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত সচেতন এবং তা বাস্তবেও চর্চা করছেন। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। তবে অনেক সময় স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও কিছু বিষয় নজর এড়ায়, যা দীর্ঘমেয়াদে রক্তে গ্লুকোজের প্রতি দেহের সংবেদনশীলতাকে (insulin sensitivity) প্রভাবিত করে।
এই লেখায় আমরা আলোচনা করব:
-
আপনি যেটুকু করছেন তা কতটা কার্যকর
-
কী করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস "রিভার্স" করার সম্ভাবনা বাড়ে
-
এবং আপনাকে আরও কী করতে হবে
আপনার প্রোফাইল বিশ্লেষণ:
-
বয়স: ৪৮ বছর
-
BMI: 25.9 (ওজন/উচ্চতা অনুসারে সামান্য বেশি, borderline overweight)
-
BP: 95–105/65–70 (স্বাভাবিকের নিচের দিকে; মাথা ঘোরা হলে সাবধানতা দরকার)
-
খাবার পরিকল্পনা: মূলত ফাইবার, অল্প কার্ব, উচ্চ প্রোটিন ও অ্যান্টি-ডায়াবেটিক উপাদান যুক্ত
-
শারীরিক পরিশ্রম: নিয়মিত হাঁটা
সংক্ষেপে: আপনি যেভাবে খাচ্ছেন ও চালাচ্ছেন, তাতে ডায়াবেটিস রিভার্স করার লক্ষ্যে অর্ধেক পথ আপনি পেরিয়ে এসেছেন।
ডায়াবেটিস রিভার্স করতে হলে কী কী করতে হয়?
ডায়াবেটিস রিভার্স বলতে বোঝায় —
HbA1c < 6.5% রাখা ওষুধ ছাড়াই বা খুব কম ওষুধে, এবং দীর্ঘদিন তা ধরে রাখা।
এটি সম্ভব যদি নিচের বিষয়গুলো সঠিকভাবে মেইনটেইন করা হয়:
১. ৩০% ওজন কমানো (যদি অতিরিক্ত ওজন থাকে)
আপনার BMI প্রায় 26 — যা সামান্য বেশি।
আপনি যদি ৬–৮ কেজি ওজন কমাতে পারেন, তাহলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি অনেক বেড়ে যাবে। এই এক কাজই ডায়াবেটিস রিভার্সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২. প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট কার্ডিও (brisk walking বা HIIT)
আপনি হাঁটছেন এটা খুব ভালো। তবে "ঘাম ঝরানো" হাঁটা প্রতিদিন করতে হবে।
সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন করুন। হাঁটার পরে stretching ও deep breathing অভ্যাস করুন।
৩. ডায়েট: আপনি যা খাচ্ছেন তা বেশ ভালো। কিছু টিউনিং দিন:
সকালের দিকেই সবচেয়ে বেশি কার্ব খাওয়া ভালো, কারণ ইনসুলিন সক্রিয় থাকে।
রাতে carb একদম কমিয়ে দিন।
আপনার ডায়েটে যেটা আরও ভালো হতে পারে:
-
ছোলার ছাতু বা মিলেট নয়, সকালে এক চিমটি গাওয়া ঘি দিয়ে ভেজানো ওটস, বা দুধ দিয়ে তৈরি মিলেট খেতে পারেন।
-
বিকেলের নাশতা আরও প্রোটিন ভিত্তিক হোক — যেমন ১টা সিদ্ধ ডিম বা হালকা গ্রিলড ফিস
-
বাদাম খাওয়া ঠিক আছে, কিন্তু ৫–৬টি বাদামেই সীমাবদ্ধ রাখুন (এগুলোতে ক্যালোরি বেশি)
৪. রক্ত পরীক্ষার ফলোআপ রাখুন:
-
HbA1c প্রতি ৩ মাসে
-
Fasting & 2hr post meal glucose প্রতি মাসে একবার
-
Vitamin D, B12, এবং Lipid Profile — ৬ মাসে একবার
৫. দুশ্চিন্তা কমান ও ঘুম ঠিক রাখুন
আপনার শরীরের Cortisol (stress hormone) যদি বেশি থাকে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়।
রাতে ৭–৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম, এবং দিনে ধ্যান / প্রার্থনা / deep breathing অভ্যাস করুন।
৬. ওষুধ চললে, ধীরে ধীরে চিকিৎসকের পরামর্শে কমান
অনেকেই ডায়াবেটিস "রিভার্স" করতে গিয়ে নিজের মতো করে ওষুধ বন্ধ করে দেন — এটা বিপজ্জনক।
আপনার লক্ষণ, ওজন, HbA1c ঠিক থাকলে চিকিৎসক পর্যায়ক্রমে ওষুধ কমিয়ে দিতে পারেন।
শেষ কথা:
আপনি যে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা এবং ইচ্ছাশক্তি দেখাচ্ছেন, সেটা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হতে পারে। ডায়াবেটিস রিভার্স সহজ না, কিন্তু অসম্ভবও না। আর আপনি সঠিক পথে আছেন।
এই অভিজ্ঞতা যদি আপনি অন্যদের সাথে ভাগ করেন, তাহলে আরও মানুষ উপকৃত হবে।
আপনার প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন বা ইনবক্সে জানান।
ধন্যবাদান্তে,
ডাঃ মোঃ ইকরামুল ইসলাম
MBBS (Dhaka Medical College)
ECFMG Certified (USA)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন